আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পারিপার্শ্বিক অবস্থা সাধারণত নোংরা হয়। এদের মৌলিক চাহিদাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণ হয় না। কারণ হিসেবে দেখা যায় খাদ্যে বিষ, বস্ত্রে মানহীনতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিম্ন মানের শিক্ষা এবং চিকিৎসা। এজন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এ দেশগুলোর প্রায় সব মানুষ।
এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে জলবায়ুকে। সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এশিয়ায় খুব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু জ্বরের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে জলবায়ুকে দুষছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ ভাইরাস জনিত রোগটি মৌসুমি সমস্যা। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৫৭ জন মানুষ মারা গেছেন। আর এই চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। অন্যদিকে শত হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। তাদের পরিস্থিতি সংকটাপন্ন।
এশিয়ান দেশ ফিলিপাইন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবকে মহামারি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করেছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে শুরু করে এই অবধি দেশটিতে ১১০৭ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এ জ্বরে ভুগেছেন ও ভুগছেন।
এশিয়া মহাদেশের গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং সাগরের উপকুলবর্তী অঞ্চলগুলোর বেশি গরম এবং স্যাতসেতে স্থানে এ রোগের ছড়াছড়ি বেশি দেখা যাচ্ছে। বাদ যায়নি কলম্বিয়া, লাউস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামও। সম্প্রতি এদেশগুলো একই সমস্যার সম্মুখীন।
সিএনএন- এর রিপোর্টে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের চিত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অসুস্থ বাচ্চারা মশারির মধ্যে শুয়ে আছে আর তাদের মায়েরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। অনেকেই হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে আছেন এবং একটি কাঙ্ক্ষিত বেডের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই অবস্থাটি খুব নাজুক।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিমাত্রায় গরম ও স্যাতসেতে আবহাওয়া এ অঞ্চলের মা মশাগুলোর জন্য ডিম পাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মানুষ নগরকেন্দ্রীক হচ্ছেন। আর শহরে মারাত্মক ঘনবসতি পরিবেশকে যেমন নোংরা করছে, তেমনি পোকামাকড়ও সেখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডেঙ্গুর পরিচয় দিতে গিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু হলো এডিস মশার দ্বারা সংক্রমিত একটি ভাইরাস, যা জিকা, চিকুনগুনিয়া এবং হলুদ জ্বর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী। এর কারণে মাথা ব্যাথা, পেশী ও গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা, জ্বর এবং ফুসকুড়িসহ ফ্লুর মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে। আর এই ভাইরাস সংক্রমিতদের মধ্যে কেবল ২৫ শতাংশ লক্ষণ দেখা যায়। এ জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্তক্ষরণ থেকে শুরু করে পক্ষাঘাত, অঙ্গের অচলাবস্থা এবং মৃত্যুও হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মশাবাহিত ভাইরাস রোগ। গত ৫০ বছরে ৩০ গুণ বেড়েছে। একসময় এটি মাত্র নয়টি দেশে দেখা যেতো। বর্তমানে এই রোগটি ১০০ টিরও বেশি স্থানে রয়েছে। ফলে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এই রোগের ঝুঁকির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

