ঢাকাWednesday , 18 September 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা
বন বিভাগের দুর্নীতিবাজরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

Link Copied!

তালুকদার রুমী : বন বিভাগের ইতিহাসে শত শত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারির জন্ম হলেও ফরেস্ট রেঞ্জার শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য ছিলেন তাদের শীর্ষে। বন বিভাগের সাবেক দুর্নীতিবাজ স্বেচ্ছাচারী প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুচ আলীর আশীর্বাদপুষ্ট এই শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন সোনারগাঁও ফরেস্ট চেক স্টেশনের কর্মকর্তা হিসেবে ১ বছর দায়িত্ব পালনকালে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গাজীপুর জেলার শ্রীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে কর্মরত থাকাবস্থায় তিনি পার্ক উন্নয়নের বিভিন্ন খাত থেকে ভুয়া ভাউচার বানিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। শিব প্রসাদ ভট্টাচার্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন বন সংরক্ষক (সিএফ) তপন কুমার দে এবং তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুচ আলী হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। বন বিভাগের ইতিহাসে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুচ আলীর ৬ বছর সময়কালে বন বিভাগে চলে ব্যাপক লুটপাট। গণমাধ্যমে এসব চিত্র প্রকাশিত হলেও স্বয়ং তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুচ আলী দুর্নীতিবাজদের শেল্টার দিতেন। যে কারণে পার্ক উন্নয়নের সরকারি অর্থ চিহ্নিত কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারি পকেটস্থ করেন। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুচ আলীর পদ লেহনকৃত ফরেস্ট রেঞ্জার শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য ইউনুচ আলীকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সোনারগাঁও চেক স্টেশনে পোস্টিং নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ধূর্ত ফরেস্ট রেঞ্জার সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারি হলেও নামে বেনামে তার রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। যে কারণে শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য কাউকে পরোয়া করেন না। টাকার জোরে তার ক্ষমতার হাত এতই লম্বা ছিল যে, গণমাধ্যমকর্মীদের নামে বিভিন্ন সময় মামলা মোকদ্দমা দায়ের করতেও শিব প্রসাদ ভট্টাচার্যের বুক কাঁপেনি। তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে সামান্য বেতনভুক্ত একজন কর্মচারি শিব প্রসাদ ভট্টাচার্যের ক্ষমতার উৎস কোথায়? বর্তমান সরকার প্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক সোচ্চার হলেও মাঠপর্যায়ে তার পক্ষে তদারকি করা সম্ভব নয়। এ জন্য রয়েছে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান। কিন্তু ডিপার্টমেন্টের প্রধান নিজেই দুর্নীতিবাজ হলে সেখানে দুর্নীতি বন্ধ হবে কিভাবে- এ প্রশ্ন অভিজ্ঞ মহলের। সাবেক এই প্রধান বন সংরক্ষক নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েকশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সাবেক এই দুর্নীতিবাজ প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুচ আলী তার পছন্দের লোকজনকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টিং দেন। বিনিময়ে পেতেন মোটা অংকের মাসোহারা। আর তার অবৈধ টাকার জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হোক আর নাই হোক কোন রকম গন্ধ পেলেই সাবেক সিসিএফ ইউনুচ আলী লেলিয়ে দিতেন তার পেটোয়া বাহিনী। সরকারি কর্মচারি হয়েও তারা কারণে অকারণে গণমাধ্যমসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের নামে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতেন। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুচ আলী সাংবাদিকদের ওপর হিংস্র দানবের মতো আচরণ করায় তার অধস্তনরাও থাকতো অজানা আতঙ্কে। দুর্নীতিবাজ সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুচ আলীর নামে বেনামে রয়েছে শত কোটি টাকার সম্পদ। তিনিও ক্ষমতার জোরে কাউকে পরোয়া করতেন না। তিনি ছিলেন মামলাবাজ একজন কর্মকর্তা। সব সরকারের আমলে সুবিধাভোগী মো. ইউনুচ আলীর নির্যাতনের হাত থেকে বন বিভাগের মালী থেকে উপ-প্রধান বন সংরক্ষক পর্যন্ত কেউ রক্ষা পায়নি। তার নির্দেশের বাইরে কেউ কথা বলতে পারতেন না। মানুষ নামের এই দানব সাবেক সিসিএফ মো. ইউনুচ আলী ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের নামে ৫টি চাঁদাবাজি মামলা দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে দায়ের করান তার পেটোয়া কর্মচারিদের দিয়ে। আদালত সকল মামলায় তাকে জামিন দেন। এছাড়া ৩টি মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ইউনুচ আলীর নির্দেশে তার পদ লেহনকৃত কর্মচারিদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐ সাংবাদিকের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করায় প্রত্যেককে ইউনুচ আলী তার বিদায়ের প্রাক্কালে লোভনীয় পোস্টিং দিয়েছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে এইসব দুর্নীতিবাজদের অনেকেই পোস্টিং নিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম ফরেস্ট রেঞ্জার রেজাউল আলম। মামলাবাজ ফরেস্ট রেঞ্জার রেজাউল আলম কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন সুয়াগাজী ফরেস্ট চেক স্টেশনে বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরি করে শত শত কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। সেখানে একজন কর্মচারি ১ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের বিধান না থাকলেও সাবেক দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারী ও বন বিভাগ ধ্বংসকারী সিসিএফ মো. ইউনুচ আলীর ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়ায় রেজাউল আলম ১ বছরের বেশি সময় সুয়াগাজী চেক স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। বন মন্ত্রণালয়ের বিধিমালায় একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারি কোন লোভনীয় স্থানে ১ বছর কর্মরত থাকলে তিনি ৮ বছরের মধ্যে আর কোন লোভনীয় পোস্টিং পাবেন না। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজ ফরেস্ট রেঞ্জার রেজাউল আলমের বেলায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পালন করা হয়নি। দুর্নীতিবাজ সিসিএফ ইউনুচ আলী অবসরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কারণে রেজাউল আলমকে চট্টগ্রাম সার্কেলে বদলি করেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কেলের বন সংরক্ষক রেজাউল আলমকে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে পোস্টিং দেন। মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে রেজাউল আলমকে পোস্টিং দেওয়া হয় টাউন রেঞ্জে। যেখানে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। কি ভাগ্য নিয়ে জন্মেছিলেন রেজাউল আলম! সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কারণে তার এতবড় প্রাইজ পোস্টিং? চট্টগ্রাম সার্কেলের বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে। কথায় বলে, ‘টাকায় বাঘের চোখ মেলে’ বন বিভাগে এ প্রবাদ বাক্যটি হাড়ে হাড়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারির নামে শত শত অভিযোগ থাকার পরও সাবেক দুর্নীতিবাজ প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুচ আলী কারো বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি নিজের আখের গোছাতে ছিলেন ব্যস্ত। ভুক্তভোগীরা সাবেক দুর্নীতিবাজ সিসিএফ মো. ইউনুচ আলী, সাবেক ফরেস্ট রেঞ্জার শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য এবং দুর্নীতিবাজ ফরেস্ট রেঞ্জার রেজাউল আলমের দুর্নীতি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাবেক দুর্নীতিবাজ প্রধান বন সংরক্ষ মো. ইউনুচ আলী, সাবেক ফরেস্ট রেঞ্জার শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য এবং ফরেস্ট রেঞ্জার রেজাউল আলমের মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি। (পাঠকদের অনুরোধে প্রতিবেদনটি পুনরায় ছাপা হলো)