নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব ভূমি অফিস ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ‘ই-নামজারির সক্ষমতা মূল্যায়নে গবেষণালব্ধ ফলাফল’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এ সময় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি অফিসের গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি ক্যান্ডিডেট মার্টিন ম্যাটসন, ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইমরান মতিনসহ ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান উম্মুল হাছনাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ‘এটুআই’ এর প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশের প্রত্যেক ভূমি অফিসকে ডিজালাইটেশনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক ভূমি অফিসে হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধাসহ ডিজালাইটেশনের কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, ২০২১ সালের আগেই দেশের সব ভূমি অফিস ডিজালাইটেশন হয়ে যাবে।
পলক বলেন, হয়রানি বন্ধ করে ভূমি ব্যবস্থাপনার সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যাতে ভূমি অফিস দুর্নীতিমুক্ত হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে।
‘আদালতে প্রায় ৩০ লাখ মামলা। তার মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে ভূমি সংক্রান্ত মামলা। ভূমি খাতটা পুরোপুরি ডিজিলাইজেশন হয়ে গেলে মামলা জটের অর্ধেকটাই কমে যাবে’, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভূমি অফিসে ডিজিটালাইজেশনের কারণে অল্প সময়ে ১০ লাখ ই-নামজারির আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
পলক বলেন, ‘ভূমি ডিজিটালাইজেশনের জন্য প্রথমে বিদ্যুৎ সেবা দরকার। এর পরই হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগ। ইন্টারনেট সংযোগ না দিতে পারলে ডিজিটালাইজেশন সম্ভাব নয়। তাই দেশের সাড়ে তিন হাজার ভূমি অফিসে হাইস্পিড ফাইবার অপটিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেবো। পুরোপরি ডিজিটালাইজেশনের জন্য সব ধরনের সফটওয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমাদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এর জন্য আমরা একটা ট্রেনিং প্রোগ্রাম থ্রু করবো।’
তিনি বলেন, ‘আইসিটি খাতে গত দশ বছরে প্রায় ১০ লাখ তরুন-তরুণীর কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছি। আগমী ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ১০ লাখ কর্মী এ খাতে তৈরি করতে পারবো। আজ থেকে ১০ বছর আগে ৫৬ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো। এখন সেটা সাড়ে ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।’

