কক্সবাজার প্রতিনিধি : বিএনপির ডাকা লাগাতার অবরোধে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জেলার মাছ রপ্তানি। এ কারণে জেলে, বোট মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। অবরোধের এখনো পর্যন্ত কোনো কূল-কিনারা দেখা না যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে তারা।
কক্সবাজার ফিশারিঘাটে মাছ অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ দিন ধরে চলমান টানা অবরোধের কবলে পড়ে কক্সবাজার উপকূল থেকে আহরিত মৎস্য রপ্তানিতে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। অবরোধের কারণে মৎস্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল করতে না পারার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এ প্রতিবন্ধকতা। যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৎস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার ফিশারিঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, অবরোধের কারণে মৎস্য পরিবহনকারী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারছে না। অবরোধকারীদের হামলার ভয়ে গাড়ি চালাতে সাহস পাচ্ছে না চালকরা। কিছু গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে মাছ পরিবহন করলেও তারা বেশি ভাড়া দাবি করছে। দাবি করা ভাড়া দিয়ে মৎস্য পরিবহন করলে লাভের মুখ দেখা যাবেনা বলে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।
জয়নাল আবেদীন আরো জানান, সময়মতো রপ্তানি করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের ক্রয়করা অনেক মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আরো বিপুল মাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মাছ রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, মাছের সঠিক রপ্তানি কার্যক্রম প্রায়ই বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ কারণে পুরো মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রজুড়ে হতাশার পরিবেশ বিরাজ করছে। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু মাছের কেনাবেচা চললে প্রাণচাঞ্চল্য নেই। জেলে, ব্যবসায়ী ও রপ্তানি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দেখা গেছে মনমরা অবস্থায়। জেলায় আরো যে কয়েকটি পয়েন্টে মাছ বেচাকেনা হয় সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
জেলেরা জানিয়েছেন, মাছ রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শুধু ব্যবসায়ী নয়; একই সঙ্গে জেলেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সময়মতো এবং ঠিকমতো রপ্তানি না হওয়ায় মাছের ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে জেলেরা তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছে না।
বোট মাঝি আব্দুল বারী বলেন, ‘জেলেদের জীবিকা শুধু মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ পরিবারই চলে একজনের আয়ে। এ অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছে জেলেরা।’
কক্সবাজার জেলা বোটমালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘মাছ পচনশীল বস্তু। হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির কবলে পড়লে তাই মৎস্য শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের ওপর দুর্দিন বয়ে যায়। এসময় বোট মালিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, জেলেসহ সংশ্লিষ্টরা সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হয়।’
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণের কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ নিঃসন্দেহে ব্যবসার জন্য চরম ক্ষতিকর। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে তো বলার অপেক্ষা রাখে না। চলমান টানা অবরোধের কবলে পড়ে মৎস্য রপ্তানিতে চরম বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মাছ বেচা-বিক্রিতো দূরের কথা আহরণেও সাহস পাচ্ছে না জেলেরা।’

