আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হারিকেন ডোরিয়ানের আঘাতের পর ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে হাজার হাজার লোক বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট আবোকো দ্বীপ ছেড়ে পালাচ্ছে। শুক্রবার কেউ নৌকায় আবার কেউ বিমানে করে ওই এলাকা ছেড়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
গত রোববার আটলান্টিক মহাসাগর থেকে উঠে আসা ৫ মাত্রার হারিকেন ডোরিয়ান আঘাত হানে বাহামার উত্তর উপকূলে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে সহশ্রাধিক লোক। নিহতের সংখ্যা ৪৩ এ দাঁড়িয়েছে বলে শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গ্রান্ড বাহামাতে আটজন এবং আবোকোস দ্বীপে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড়ের পর বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় ধ্বংসস্তুপ থেকে আরো মৃতদেহ উদ্ধার হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাদের আছে তাদেরকে বিনাভাড়ায় ফ্লোরিডায় পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্যারাডাইজ ক্রুজ লাইন শিপ নামের একটি জাহাজ কোম্পানি। এরপরই হাজার হাজার লোককে বাহামা ছাড়ার জন্য ফ্রিপোর্ট বন্দরে অপেক্ষমান দেখা গেছে।
এদিকে হারিকেনের পর নাসাউর কেন্ডাল জি এল আইজাক ন্যাশনাল জিমনেসিয়ামকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকদের অধিকাংশেরই পরনের কাপড় ছাড়া অন্য কোনো সম্বল নেই।
ফিরস্তিনা সোয়াইন নামে ৭৫ বছরের এক নারী বলেন, ‘আবাকোতে কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারছে না, নিরাপদ কোনো জায়গা নেই, সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আবাকোর বাসিন্দাদের সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সেখানে অনেক মৃতদেহ আছে। আমার মনে হয় না তারা এগুলো খুঁজে শেষ করতে পারবে।’
ন্যাশনাল ভয়েস অব দ্য বাহামাস নামের একটি রেডিও জানিয়েছে, নৌকায় করে ২৫০ জন আবাকো ছেড়ে রাজধানী নাসাউতে এসে পৌঁছেছে। আরেকটি নৌকায় করে শতাধিক লোক রাজধানীতে আসার পথে রয়েছে।
বাহামার বিমান সংস্থা নিমার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার বিমানে করে প্রায় ২০০ লোক আবাকো ছেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হুবার্ট মিন্নিস এক টুইটে বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে বাহামাস এয়ারে বিনা ভাড়ায় আবাকো থেকে লোকজন সরিয়ে আনা শুরু হবে এবং যে পর্যন্ত গ্রান্ড বাহামা ও আবাকোর বাসিন্দারা দ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়া অব্যাহত রাখবেন।’

