আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় ভারত নিয়ন্ত্রীত কাশ্মীরে অমরনাথ দর্শনার্থীদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ নিয়ে শান্তি বজায় রাখতে এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যপাল সত্য পাল মালিক।
গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অমরনাথ যাত্রায় সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় ওই তীর্থযাত্রা মাঝপথেই স্থগিত করে দেওয়া হয়। ফলে যেকোনো মুহূর্তে কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় ভুগছেন এলাকাবাসীসহ অমরনাথের তীর্থযাত্রীরা।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, শাহ ফয়জল, সাজ্জাদ লোন এবং ইমরান আনসারি কাশ্মীর উপত্যকায় এই ‘আতঙ্কের পরিবেশ’ নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্যপাল প্রতিনিধিদলকে জানান, অমরনাথ যাত্রায় সন্ত্রাসবাদী হামলার বিষয়ে গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে।
তবে এই আশঙ্কাকে বেশি বড় করে দেখানো হচ্ছে জানিয়ে রাজ্যপালের অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অন্যান্য ধরনের সমস্ত সমস্যার সঙ্গে অমরনাথ যাত্রায় সন্ত্রাসহানার আশঙ্কার বিষয়টি যুক্ত করে অহেতুক আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এখানে, অথচ এমন কিছু বিষয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসহানার বিষয়টি মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। এটাই আতঙ্কের কারণ।’
জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিবিদরা তাদের নিজেদের দলীয় নীতি মেনেই রাজ্যের অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংবিধানে প্রতিশ্রুত রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার বিষয়ে আসন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও জল্পনা শুরু করেন।
অমরনাথ যাত্রায় সামিল তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের তাৎক্ষণিকভাবে কাশ্মীর উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বলার কেন্দ্রীয় পরামর্শের পরেই ওই উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় মুফতিকে। কেন্দ্রের ওই নির্দেশের পরেই শ্রীনগরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সেখানকার মানুষজন এটিএম, পেট্রোল পাম্প এবং ওষুধের দোকানগুলিতে গিয়ে অর্থ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখার প্রক্রিয়া শুরু করেন। পেট্রোল পাম্পগুলির সামনে জ্বালানির অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সেখানকার মানুষজনদের।
সাংবাদিকদের সামনে উদ্ধার হওয়া ল্যান্ডমাইন ও স্নিপার রাইফেল প্রদর্শন করে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অমরনাথ যাত্রার উপর সন্ত্রাসবাদী হামলার গোয়েন্দা সতর্কবার্তা যথার্থ ছিল।

