ঢাকাSunday , 14 July 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাস্তিল দিবস: কী হয়েছিলো সেদিন?

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : ‘উৎসব’ কথাটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাসি, কান্না, আনন্দ ও বেদনার এক বৈচিত্রময় ইতিহাস। যেখানে রয়েছে অগণিত মায়ের সন্তান হারানোর আহাজারি, স্ত্রীর স্বামী হারানোর বেদনা, দেশ ত্যাগের মতো করুণ চিত্র এবং অসাধ্যকে সাধন করার আনন্দ। কিন্তু এমন যোগ আর বিয়োগান্তক ঘটনা যতই থাক, সময়ের আবর্তনে একদিন এটি উৎসবে পরিণত হয়।
ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস এমনই একটি স্মরণীয় ঘটনার স্বাক্ষী বহন করে। ধীরে ধীরে এ দিবস ফ্রান্সের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। প্রতি বছর ১৪ জুলাই বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এটি উদযাপন করা হয়।
ফ্রান্সের প্যারিস বিশ্বব্যাপী আপামর জনতার কাছে একটি স্বর্গের নাম। আসলেই কি তাই? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, ফ্রান্সের জাতীয় উৎসব ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় এটি ল্য ক্যাতৌযে জুইয়ে (le quatorze juillet) অর্থাৎ ১৪ জুলাই নামে পরিচিত। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্স রাজ্যের প্যারিস কুখ্যাত বাস্তিলে ভূমিহীন, শোষিত সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করে। আন্দোলনের মুখে এই বাস্তিল দূর্গের পতনের মধ্য দিয়ে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই বিপ্লব ছিলো তদানীন্তন ফ্রান্সের শত শত বছর ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত ‘থার্ড স্টেট’ বা সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই বিপ্লবের আগে পুরো ফ্রান্সের ৯৫ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিলো মাত্র ৫ ভাগ মানুষ। অথচ সেই ৫ ভাগ মানুষই কোনো আয়কর দিত না। যারা আয়কর দিতো, তারা তেমন সুবিধা ভোগ করতে পারতো না। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করতো তাদেরকে এই বাস্তিল দূর্গে বন্দী করে নির্যাতন করা হতো।
ঘটনাবহুল বাস্তিল দূর্গ ছিলো স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতন ও জুলুমের এক উজ্জ্বল প্রতীক। কোন বন্দী একবার সেখানে প্রবেশ করলে জীবন নিয়ে আর ফিরে আসাতে পারতো না । কারাগারের ভিতরেই মেরে ফেলা হতো তাদের। এখনও সেখানে গেলে মনে পড়ে যায় সেই ভয়াল চিত্র। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই নির্ধারিত প্রতিনিধি, রক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং বাস্তিল দূর্গের অভিমুখী মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন । রক্তক্ষয় এড়াতে প্রতিনিধিরা দূর্গের প্রধান দ্য লোনের কাছে আলোচনার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব ছিলো বাস্তিলে ৭ জন রাজবন্দীকে মুক্তি দেয়া। দ্য লোন সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে বিক্ষুব্ধ জনতা বাস্তিল দূর্গে ঝাঁপিয়ে পরে। দূর্গের সৈন্যরাও ভিতর থেকে কামান দিয়ে গুলি চালায়। এতে প্রায় ২০০ আন্দোলনকারী মারা যান এবং আহত হন। এরপর চারদিক থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা বাস্তিল দুর্গ ধ্বংস করেন। এভাবে জয় হয় সাম্য, মৈত্রী এবং স্বাধীনতার।
প্যারিসের শঁজেলিজে অ্যাভেনিউতে ১৪ জুলাই সকালে দেশটির রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে উৎসব শুরু হয়। একোল পলিতেকনিক, একোল স্পেসিয়াল মিলিতের দ্য সাঁ-সির, একোল নাভাল নামক বিদ্যালয়ের ক্যাডেটদের এবং সাধারণ সৈন্যদের কুচকাওয়াজ হয়। আ র সাঁজোয়া গাড়ির বহরও চলতে থাকে। আকাশে পাত্রুই দে ফ্রঁসের বিমান ওড়ে। বর্তমানে ফ্রান্সের বন্ধুপ্রতিম দেশের সৈন্যরাও এই কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি সাধারণত দেশের অবস্থা সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার দেন এবং কারাগারে থাকা তুলনামূলক কম অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের ক্ষমা করে দেন।