আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রত্যর্পণ বিলে চীনাদের সহানুভূতি পেতে এবার হংকংয়ের পর্যটন স্থানগুলোতে বিক্ষোভ করেছে কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী। রোববার বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনপ্রিয় বিলাসবহুল পণ্য বিক্রয় এলাকা তিসিম শা তিসুইয়ের সড়কে এ বিক্ষোভ র্যালি হয়েছে।
১৯৮৯ সালে তিয়ানআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভের পর চীন সরকার যে কোনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সংবাদ প্রচারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যাচ্ছে। সেই সুবাদে হংকংয়ের বিক্ষোভের খবর মূল ভূখন্ডের সংবাদমাধ্যমগুলোতে খুব কমই প্রকাশিত হয়।
রোববার মিছিল থেকে চীনের দাপ্তরিক ভাষা ম্যান্দারিনে স্লোগান দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া তারা চীনা পর্যটকদের মাঝে প্রচারপত্র বিলি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাপল ফোন থেকে অ্যাপল ফোনে চীনা বর্ণমালায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছে। সংক্ষিপ্ত মিছিলটি পরে হংকংয়ের সঙ্গে চীনের সংযোগকারী দ্রুতগামী ট্রেন স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজকদের অন্যতম লাউ উইং-হং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘হংকংবাসী কী করে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে পারে এবং বিক্ষোভের তথ্য মূল ভূখন্ড থেকে মূল ভূখন্ডের পর্যটকদের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে পারে তা হংকংবাসী ছড়িয়ে দিতে পেরেছে বলে আশা করা যায়।’
গত সোমবারের পর হংকংয়ে প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এটাই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। গত সোমবার কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী হংকংয়ের পার্লামেন্ট ভবন অবরোধ করে। বিক্ষোভকারীদের অনেকে পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ভাঙচুর চালায়।
অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও গণতন্ত্রপন্থীরা। তাদের দাবি, বিলটি আইনে রূপ নিলে কোনো অপরাধীর বিচারের জন্য মূল ভূখন্ড চীনে পাঠানো যাবে। এতে হংকংয়ের স্বায়ত্বশাসনের ওপর চীনা হস্তক্ষেপ সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পাবে। চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম আন্দোলনের মুখে বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন স্থগিত রাখেন। তবে তিনি বিলটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে রাজী হন নি।

