আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কংগ্রেসের সভাপতি পদে না থাকার বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল রইলেন রাহুল গান্ধী।
বুধবার আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্বকে। পদত্যাগের চিঠি তিনি টুইটও করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি আর কংগ্রেসের সভাপতির পদে নেই। নতুন সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও থাকব না’।
তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই কংগ্রেসের উচিত শিগগিরই একজন নতুন দলীয় প্রধান নির্বাচন করা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এনডিটিভি বলছে, কংগ্রেস সূত্রগুলো রাহুল গান্ধীর পদত্যাগপত্র গৃহীত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কংগ্রেসের নতুন সভাপতি বেছে নেয়া হতে পারে।
এর আগে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ে ব্যর্থতার দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন রাহুল গান্ধী। আর বুধবার আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্বকে। পদত্যাগের চিঠি তিনি টুইটও করেছেন।
গত ২৩ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের দুদিনের মাথায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু দল তাঁকে সরে যেতে দেয়নি। ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তাকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও তারা রাহুল গান্ধীর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি।
পদত্যাগের চিঠিতে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘কংগ্রেসের হয়ে কাজ করা অনেক সম্মানের। দলীয় মূল্যবোধ ও আদর্শ আমাদের সুন্দর জাতি গঠনের জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আমি এই দেশ ও আমার দলের কাছে ঋণী। সেই সঙ্গে থাকছে অসীম কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটিকে বলেন, খুব দ্রুত একটি বৈঠক ডাকা উচিত, যাতে দলের নতুন সভাপতি কে হবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩ আসনের পার্লাসেন্টে কংগ্রেস মাত্র ৫২ আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ৩০৩ আসনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করে।
গোটা দেশেই নির্বাচনী ফলে ধস নামে কংগ্রেসের। রাহুল গান্ধী নিজে আমেথিতে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান। তবে কেরালায় একটি আসনে জিতে মুখ রক্ষা করেন রাজীব-সোনিয়া তনয় রাহুল।
নির্বাচনে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে ২৫ মে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় পদত্যাগপত্র জমা দেন রাহুল। সে সময় তার পদত্যাগপত্র নাকচ করে উল্টো রাহুলকে দলের সব পর্যায়ে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দিয়েছিল ওয়ার্কিং কমিটি।
এরপর কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা রাহুলের প্রতি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন রাহুল।

