ঢাকাSaturday , 22 June 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সঞ্চয়পত্রে ঋণ নির্ভরতা ও সুদের ব্যয় বাড়ছে

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : বাজেট ব্যবস্থাপনায় ঋণের জন্য সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগের অন্যতম খাত হিসেবে সাধারন মানুষও সঞ্চয়পত্র কেনার পেছনে ঝুঁকে পড়ছেন। এর ফলে সঞ্চপত্রের সুদের টাকা পরিশোধেও বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের বাজেট পর্যালোচনা করলে এমনটাই দেখা যায়।
পাঁচ বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার যে প্রাক্কলন করা হয় সে অনুযায়ী এই ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক বেশি। প্রতিবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার কি পরিমাণ ঋণ নেবে তা বাজেটে উল্লেখ থাকে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছর সে লক্ষ্যমাত্রা স্থির থাকেনি। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার কেটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে ঋণ নেওয়া হয় ২৮ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা।
বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা আর ঋণ নেওয়া হয়েছে ৪৬ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি নেওয়া হয় ১৬ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। নেওয়া হয় ৫১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। বেশি নেওয়া হয় ৩২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। ঋণ নেওয়া হয় ২৮ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়া হয়।
একইভাবে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। নেওয়া হয় ২৮ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এ অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়া হয়। চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কারণে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১৮ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০১২০ অর্থবছরের বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি হলে সরকারকে বেশি সুদ গুণতে হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের অর্থ ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সুদ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ২৯ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে জানান, দেশের মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভাবনাময় করতে সঞ্চয়ের অর্থ তিনটি জায়গায় বিনিয়োগ করেন। সেগুলো হচ্ছে ব্যাংকে দীর্ঘমেয়াদি আমানত রাখা। সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারবাজার। ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে এ অর্থ রাখা হয়। কিন্তু ব্যাংকের আমানতের হার এখন গড়ে ৬ থেকে ৭ ভাগে রয়েছে। এখানে অর্থ রেখে তেমন লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। আর শেয়ারবাজারের প্রতিও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারছেন না। বাকি রইল সঞ্চয়পত্র, এখানে অর্থ রাখা নিরাপদ ও সুদ বেশি। তাই মানুষ সঞ্চয়পত্রেই সবচেয়ে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করছে। কয়েক বছর ধরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে গেছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হওয়ার কারণে গ্রাহকের সুদের অর্থ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।