ঢাকাFriday , 14 June 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুফল পাবে উচ্চ আয়ের মানুষ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ আয়ের মানুষ সুফল পাবে বলে মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বাজেটে মধ্যবিত্তের উপার্জন ক্ষমতা বিকাশের বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি এবং অল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রান্তিকভাবে ‘একধরনের একটা ব্যবস্থা’ রাখা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০’ নিয়ে সিপিডির এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘যারা আয় করে খায় বাজেটে তাদের কোনও সুবিধা দেওয়া হয়নি, সুবিধা দেওয়া হয়েছে বিত্তবানদের। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ধনীদেরকেই বেশি। এই বাজেটে উচ্চ আয়ের মানুষকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ উপকৃত হবে না। আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন খাত সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
মানুষের আয় বৈষম্য বাড়ছে। বাজেটে মধ্যবিত্তের উপার্জন ক্ষমতা বিকাশে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বৈষম্য কমানোর প্রতি সরকারের কোনও নজর নেই। প্রস্তাবিত বাজেট আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। যদিও সম্পদের সারচার্জের সীমা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ যারা আয় করে তাদের জন্য সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। কিন্তু যারা সম্পদশালী তাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কেন দেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে এটি বোধগম্য নয়। এটি সরকারের নির্বাচনী চেতনার সঙ্গেও মেলে না।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমানে অর্থনৈতিক যে চাপ চলছে, বাজেটে তার কোনও স্বীকৃতি নেই। বাজেট দেওয়ার সময় যে অভিনব কায়দা ছিল, বাজেটের তথ্য উপাত্তে তা পাওয়া যায়নি। দেশের মধ্যবিত্তের জন্য আমরা কি করতে পারবো; সেটার ওপর নির্ভর করছে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া।
বিকাশমান মধ্যবিত্তই হলো চালিকাশক্তি। তাদের চিন্তা, চেতনা, উপার্জন, বুদ্ধিমত্তাই হলো চালিকাশক্তি। সেই চালিকাশক্তিকে যদি সেভাবে পরিমাপ না করেন, তাহলে ইশতেহারের চেতনা সম্পূর্ণ বিফল হবে। এটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও ভোটের ভিত্তি পরিপন্থী; আর এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।’
নতুন ভ্যাট আইনেও জটিলতা রয়েছে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হবে বলে মনে করি। এ নিয়ে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি হবে। গতবছরের তুলনায় এই অর্থবছরে ধান-চাল সংগ্রহে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি বলে কৃষক উপকৃত হবে না।’
সামষ্টিক বাজেট কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী এবার অনেক লক্ষ্যের ক্ষেত্রেই বাস্তবমুখী হয়েছেন। ফলে আগের দু-একটি বছরের তুলনায় রাজস্ব ও বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা কম। তিনি কর–বহির্ভূত আয় বাড়ানোর উদ্যোগ, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে উন্নয়ন ব্যয় ৭ শতাংশ রাখা, শত শত নতুন প্রকল্প না নেওয়াসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানান।
করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করা ও তিন কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন যে করদাতার সংখ্যা এক কোটি হবে, বলা হয়েছে শিগগিরই হবে। শিগগিরই কবে? কালকে? তিন বছর পর? পাঁচ বছর পর? কবে?’
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত ছিলো বলেও মনে করেন তিনি।
‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন আসা প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষায়, ১ শতাংশ স্বাস্থ্য ও ২ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ বরাদ্দ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্যে সুখবর নয়।’
ব্যাংক খাতে সংস্কার দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে এ নিয়ে নির্দেশনা দেননি। ব্যাংক থেকে যারা অন্যায্য সুবিধা নিয়েছেন, তারা আসলে পরিবর্তন চান না; তারা স্বচ্ছতা চান না। ব্যাংক খাত থেকে যারা অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন, তারা ব্যাংক কমিশন হোক চান না। কমিশন হলে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। তথ্য উপাত্তের সমস্যা আছে, সেগুলো প্রকাশিত হবে, জবাবদিহি বাড়বে। যারা এ খাত থেকে অন্যায্য সুবিধাগুলো নিয়েছেন, তারা এ পরিবর্তনগুলো আনতে দিতে চান না।’
খাতওয়ারি বরাদ্দের দিক থেকে বাজেট ভারসাম্যহীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।