নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবছর প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ খানিক উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। কারণ, প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর পরই অনেক অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়ে জীবন-জীবিকায়।
শুক্রবার রাজধানীতে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা এ মন্তব্য করেন।
রাজধানীর গুলিস্তানে কথা হয় রবিউল হাসানের সঙ্গে। পেশায় হোটেল ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘শিশুখাদ্য সামগ্রিতে ভ্যাট দিতে হয়। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যাশা করব, খাদ্যদ্রব্যের ভ্যাট যেন কমানো হয়। বাজেট তো সাধারণ মানুষের জন্য। তাই সরকারের কাছে দাবি, বাজেট যেন জনবান্ধব হয়।’
রাজধানীর পুরানা পল্টনে কথা হয় গণমাধ্যমকর্মী তানভির হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজেটে মোবাইল টেলিফোন সেবার ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যা মোবাইল ফোন অপারেটর ও সার্ভিসের ওপর কার্যকর করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায়।’ যারা মোবাইল ফোনে কম কথা বলে তাদের বাদ দিয়ে যারা মাসে গড়ে ৫০০ টাকার বেশি কথা বলে তাদের জন্য ভ্যাট বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘বাজেটের টাকা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ছাড়া আর কোথা থেকে আসবে? পরোক্ষ কর বাড়ানোর ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে। বিভিন্ন পণ্যে পরোক্ষ কর দিয়ে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত। একটি কাপড় কাচা সাবান ২০ টাকা । পরোক্ষ ভ্যাটের কারণে ২২ টাকা হবে। ফলে পরোক্ষ করের প্রভাব সবার জীবন-জীবিকায় পড়বে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিয়াজ মাখদুম বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষই মধ্যবিত্ত। তাদের জন্য মূল্য সংযোজন কর যত কম রাখা যায় ততোই ভাল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো উচিৎ। কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িতরা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
ধনিয়া কলেজের ছাত্র সোহাগ হাসান বলেন, ‘স্মার্ট মোবাইল ফোন ও কল রেটের ওপর নতুন করে করারোপ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার হ্রাস পাবে। পাশাপাশি সব সেক্টরেই যুগোপযোগী করে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।’
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে বিশাল একটা অংশের অর্থ জনগণের কাছ থেকে আসবে। কিন্তু তার অনুকূলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা খাতে খানিক কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাজেটে বড় একটি বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ জনগণের জন্য কিছুই নেই। একারণে কোটিপতির অর্থ আরো বাড়বে, সাধারণ মানুষ কোন রকম খেয়ে পড়ে থাকবে।’
ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩০)। এক বছর ধরে তিনি রাজধানীতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাজেট বিষয়ে তার কোনও কিছু জানা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বলেন, ‘চাল-ডালের দাম বাড়ানোর মতলব। বাজেট পাসের আগেই সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। এমনি বিড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে।’ বিড়ির দাম না বাড়িয়ে মদের দাম বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হেটে হেটে সিগারেট বিক্রি করেন আমিনুল ইসলাম। বাজেট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিগারেটের দাম বাড়বে জানি। বাজেটে প্রতিবছর সিগারেটের দাম বাড়ে। এবারও বেড়েছে। আরও বাড়বে বলে জানতে পেরেছি। বেনসন সিগারেট প্রতি শলাকা ২০ টাকা, গোল্ডলিফ ১৫ টাকা হবে। এর পরেও মানুষ খাবে।’

