নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকায় বসে উজানচরের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। উজানচরের প্রকল্প উজানচরে বসে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।
সোমবার শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বসে অনেক চরাঞ্চলের গাড়ি চলাচল করতে দেখি। অথচ গাড়িটি ঢাকার জন্য নয়, চরাঞ্চলের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেনা। চরাঞ্চলের গাড়ি শুধু চর এলাকায় থাকবে। এটা ঢাকায় থাকারও কথা নয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার চরের উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প পরিচালকদের উচিত হবে চরে থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। চরের মানুষ দরিদ্র থেকে আরো দরিদ্র। সুতরাং চর এলাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আরো মানবিক হতে হবে। চর এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, চরে জমির মালিকানার বিষয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়। নদী এলাকায় হঠাৎ চর জেগে উঠে তখন মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।’
চর এলাকায় ছোট ছোট প্রকল্প পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে বাস্তবায়নে মত দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা বলেন, চরের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি চর ফাউন্ডেশন অথবা বোর্ড গঠন করা যায়। যা চরের মানুষের উন্নয়ন ও চরের দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। এ রকম একটি কর্তৃপক্ষ না থাকায় প্রতি বছর চরের উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেট যে বরাদ্দ থাকে তা ব্যয় হয় না। বহু নদ-নদী বেষ্টিত বাংলাদেশের একটা বড় অংশ চরভূমি। এসব চরে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করে। বাংলাদেশে মোট ভূমির প্রায় ১০ শতাংশ চরভূমি। দেশের প্রায় ৩২টা জেলার শতাধিক উপজেলার অংশবিশেষ জুড়ে বিস্তৃত এই চরাঞ্চল।
অনুষ্ঠানে ওয়াটার এইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব জাহিদ রহমান, কেয়ার বাংলাদেশের সমন্বয়ক আসিফ ইমরান খান, কনসার্ন ওয়াল্ড ওয়াইডের চর প্রোগ্রাম প্রধান সাঈদ মাহমুদ রিয়াদ, ক্রিশ্চিয়ান এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব নবী, অক্সফার্ম বাংলাদেশের এডভোকেসি সমন্বয়ক সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

