ঢাকাMonday , 6 May 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কঙ্গোতে সড়ক দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা নিহত

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : কঙ্গোতে সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) রৌশন আরা বেগম নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি লরি রৌশন আরাকে বহনকারী গাড়িকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার গাড়ির চালক ও অন্য দুই যাত্রী। তাদের মধ্যে পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামও আছেন।
পরবর্তীতে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়।
রাজধানী ঢাকার মগবাজারের সাবেক টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রৌশন আরা। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স), এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন রৌশন আরা বেগম।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ঢাকায় শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমি, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯৪ সালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর একই পদে টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন।
রৌশন আরা ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মুন্সীগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান।
পুলিশ বাহিনীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুবার আইজিপি ব্যাজ পান এবং বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুলিশ পদক ‘পিপিএম’ লাভ করেন।
১৯৯৮ সালে তিনি মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালীন ‘অনন্যা শীর্ষ দশ-১৯৯৮’ পুরস্কার ও ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন পুলিশের স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১২ লাভ করেন।
রৌশন আরা একজন নারী অধিকারকর্মীও ছিলেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে তিনি সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন।
তিনি কসোভোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের ক্রাইম অ্যানালাইসিস অফিসার ছিলেন। সুদানে ইউএনএমআইএস-এউএনপিওএল শান্তিরক্ষী মিশনে তিনি চিফ অব স্টাফ ছিলেন। তিনি ইউএনএমআইকে এনং ইউএনএমআইএস পদকেও ভূষিত হয়েছেন।
রৌশন আরা বেগমের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি তার অবসর সময় পারিবারের সঙ্গে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের মাধ্যমে কাটাতেন। তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার বাংলাদেশের নারী পুলিশের অনপ্রেরণা হয়ে থাকবে।