আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানের নতুন সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে আরোহন করেছেন নারুহিতো। বুধবার ইমপেরিয়াল প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৫৯ বছর বয়সী নারুহিতো সম্রাট হিসেবে প্রথম ভাষণে জাপানি জনগণের সুখ, দেশের উন্নতি ও বিশ্ব শান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এ সময় তিনি তার বাবা প্রাক্তন সম্রাট আকিহিতোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা নারুহিতো জাপানের ১২৬তম সম্রাট। তিনি ২৮ বছর বয়সে যুবরাজ হন।
নতুন সম্রাট রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে একটি তলোয়ার ও একটি রত্ন গ্রহণ করেন। যা জাপানি সম্রাটগণ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পেয়ে আসছেন।
নতুন সম্রাটের রাজত্বকালকে বলা হচ্ছে ‘রেইওয়া’। রেইওয়া শব্দের অর্থ শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি। জাপানের একটি প্রাচীন কবিতা থেকে নামটি নেওয়া হয়েছে। এর আগে সম্রাট আকিহিতোর যুগের নাম ছিল ‘হেইসেই’, যার অর্থ শান্তি অর্জন।
জাপানে সম্রাট বদল হলে নতুন যুগের সূচনা হয়। প্রত্যেক সম্রাটের শাসনামলের একটি নাম নির্ধারণ করা হয়, যা খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়। যুবরাজ নারুহিতোর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রেইওয়া নামের নতুন আরেকটি যুগ শুরু হলো।
সাংবিধানিকভাবে জাপানের সম্রাটের কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তাকে কেবল জাতীয় প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
নারুহিতোর বাবা ৮৫ বছর বয়সী আকিহিতো মঙ্গলবার টোকিওর ইমপেরিয়াল প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বিগত ৩০ বছর শাসনামলে তাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
জাপানের গত ২০০ বছরের ইতিহাসে আকিহিতোই প্রথম সম্রাট যিনি জীবিত থাকা অবস্থায় সিংহাসন ত্যাগ করলেন। এর আগে ১৮১৭ সালে এক সম্রাট দায়িত্ব ছেড়েছিলেন।
নতুন সম্রাট নারুহিতোর একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবেন না। কারণ, জাপানের আইন অনুযায়ী, নারীরা সিংহাসনের আরোহন করতে পারেন না।
নারুহিতোর ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী। তার পরে উত্তরাধিকারী হবেন ফুমিহিতোর ছেলে অর্থাৎ নতুন সম্রাটের ভাতিজা প্রিন্স হিসাহিতো।
সদ্য বিদায়ী সম্রাট আকিহিতো এখন ‘জোকো’ হিসেবে আখ্যায়িত হবেন। জোকো শব্দের অর্থ গ্র্যান্ড ইমপেরোর বা ইমপেরোর ইমেরিটাস।

