ঢাকাTuesday , 9 April 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওয়াজেরিনদের নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে দেশে ওয়াজের ওপর কোনো রকমের বিধি-নিষেধ নেই। তবে এসব ওয়াজের বক্তা বা ওয়াজেরিন কোনো রকম নিবন্ধনের আওতায় নেই। ফলে অনেক সময় তারা সাম্প্রদায়িক, নারীবিদ্বেষী কিংবা কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
এ অবস্থায় সারা দেশের ওয়াজেরিনদের নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং তাদের উপার্জনের হিসাব রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ওয়াজকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠার পর সকল ধরনের ওয়াজ-মাহফিল পর্যবেক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় মনে করছে, ওয়াজের নামে অনেকে সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদী, নারীবিদ্বেষী ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ ব্যবস্থা নিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বিভাগীয় কমিশনারদের সম্প্রতি চিঠি পাঠায় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, চিঠিতে আপত্তিকর ওয়াজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও ওয়াজেরিনদের (ইসলামী বক্তা) নিবন্ধনের ব্যবস্থা, যারা আর্থিক চুক্তিতে ওয়াজ করেন তাদের আয়করের আওতায় আনাসহ দেশের আইনবিরোধী কোনো ওয়াজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইফাবার সচিব কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি। এরই মধ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সারা দেশে ওয়াজেরিনদের একটা তালিকা করা হয়েছিল, সেটা আবার আপডেট করা হচ্ছে। এরপর তাদের কীভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করব।
কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, মহাপরিচালক মহোদয় দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলেই আমরা বৈঠক করব। যারা ওয়াজ করেন তাদের নিয়েও আমরা আলাদা বৈঠক করব।
তিনি বলেন, আমরা কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করছি। যারা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন তাদের আমরা প্রথমে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করা হবে।
তালিকায় কারা থাকতে পারে এ বিষয়ে সচিব বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ কেউ অনুমোদিত ওয়াজেরিনদের তালিকায় থাকবেন না। যারা তালিকায় থাকবেন তাদের একটি নির্দিষ্ট ইসলামী শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যারা রাজনৈতিক প্রচার চালায়, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন তাদের আমরা তালিকায় রাখছি না। এছাড়া, যারা জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে যায় এমন ওয়াজ করেন তারাও তালিকায় থাকবেন না।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে একশ্রেণির ইসলামী বক্তার ওয়াজে সাম্প্রাদয়িকতা ও জঙ্গিবাদের উসকানি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের ১৫ জন বক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের কিছু বক্তব্যের উদ্ধৃতিও দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে। যেমন, ‘মূর্তি ভাঙা ধর্মীয় কাজ’, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাফের’, ‘অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়’, ‘গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র,, ধর্মনিরেপক্ষতাবাদ মুশরিকদের কাজ’, ‘শহিদ মিনারে ফুল দেয়া, ফুল দিয়ে নীরবতা পালন করা শিরক’, ‘জাতীয় সংগীত কওমি মাদ্রাসায় চাপিয়ে দেওয়া যাবে না’, ‘আল্লাহর রাস্তা প্রতিষ্ঠায় উত্তম জিহাদ হচ্ছে সশস্ত্র জিহাদ’, ‘আল্লাহর রসুলকে গালি দিলে কোপাতে হবে’, ‘ইসলামের বিরুদ্ধে আইন করলে কোপাতে হবে’, ‘ নারী হলো শষ্যক্ষেত্র, সেখানে চাষ করতে হবে’ প্রভৃতি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াজ নিয়ে মোট ৬ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশের মধ্যে বিদ্বেষমূলক ওয়াজের কারণে সতর্ক করা ছাড়াও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য যারা দেবেন তাদের আইনের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
ইসলামী বক্তাদের আয়ের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ওয়াজ মাহফিল করে এখন অনেক অর্থও উপার্জিত হচ্ছে। কেউ কেউ হেলিকপ্টারে করেও একদিনে একাধিক জায়গায় ওয়াজ করছেন। তারা বড় অংকের টাকা নিয়ে চুক্তিতে ওয়াজ করেন। আর এখন অনেক বক্তা ইউটিউব চ্যানেল খুলে, সিডি বের করেও অর্থ আয় করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও চিঠি দিয়েছে তাদের আয়করের আওতায় আনার জন্য।