নিজস্ব প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে রিডেভেলপ করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ইমারত নির্মাণে সরকারের দায়িত্ব ও নাগরিকের করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেসে এ তথ্য জানান তিনি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, পুরান ঢাকায় নতুন ভবন করে দেওয়ার পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে কথাও হয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্টদের।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরের বয়স প্রায় ১ হাজার বছর। এ শহরে কিছু ভবন রয়েছে, যেগুলো অনেক আগে হয়েছে। এগুলো রাতারাতি ভেঙে নতুন করে করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। সেটা হচ্ছে পুরান ঢাকাকে রিডেভেলপ করা। এর অর্থ হচ্ছে পুরান ঢাকার পাঁচ কাঠা জায়গার ওপর কোথাও কোথাও তিনটা ভবন আছে। সেগুলোতে ইটের ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু সিমেন্ট, রডের ব্যবহার কম।’
‘আমি পুরান ঢাকাবাসীকে প্রস্তাব দেব, তাদের পুরাতন ভবন ভেঙে আমরা মানসম্মত, পরিবেশসম্মত, বিল্ডিং কোডসম্মত ইমারত নির্মাণ করে দেব। তিনজন মালিক অনুপাত অনুযায়ী যে কয়টা ফ্ল্যাট পেতে পারেন, আমরা তা দিয়ে দেব। যাতে পুরান ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন না থাকে’, বলেন রেজাউল করিম।
এ ধরনের প্রস্তাব আগেও দেয়া হয়েছিল, তখন হয়নি, এবার তা কতটা সম্ভব? আর পুরান ঢাকাবাসী যদি এটা গ্রহণ না করে, সেক্ষেত্রে কী হবে? এসব প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কারো মন জানি না। তবে আমার যতটুকু বিশ্বাস, আমরা যদি সক্ষম হই- আপনার সন্তান, আপনার জীবন, আপনার পরিবার বিপন্ন হয়ে গেলে আপনার রক্ষণশীলতার মায়া নিয়ে কী হবে? আমার পুরান ঢাকার বাড়ি আমি ছাড়ব না, এ মায়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনাদের জীবন। আমার বিশ্বাস, আমরা সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে তারা বুঝবে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এখন হয়নি, আগামীতে যে হবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা চেষ্টা করব।’
বর্তমান অবস্থায় পুরান ঢাকাকে একেবারে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। রাস্তা প্রশস্ত করতে হলে অনেক বিল্ডিং সরাতে হবে। সেখানকার ভবনগুলোর অবস্থা এতটাই নাজুক, একটা ভবনের ইটে আঘাত করলে পুরো ভবনটাই ভেঙে পড়তে পারে, এমন স্থাপনাও রয়েছে।’

