নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্টেশনপ্রাপ্ত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষকরা।
শনিবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকদের ষষ্ঠ দিনের মতো লাগাতার এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। অবস্থান কর্মসূচি থেকে বেতন-ভাতা বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।
বক্তারা বলেন, ‘১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীকালে বিগত সরকারের শেষ সময়ে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি হতে হতে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি বর্তমান সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সরকারের সকল কাজে অংশগ্রহণ করে। অথচ মাস শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ২২-৩০ হাজার টাকা বেতন পেলেও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা তেমন বেতন-ভাতা পান না। তবুও তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
তারা বলেন, ‘১৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সর্বসাকুল্যে প্রধান শিক্ষক আড়াই হাজার, সহকারী শিক্ষক ২ হাজার ৩০০ টাকা বেতন-ভাতা পান। বাকি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত মাদ্রসার শিক্ষকরা ৩৪ বছর যাবৎ বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত, যা এই উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে অমানবিক, শিক্ষকদের অবমাননা ছাড়া কিছুই না।’
প্রধানমন্ত্রী অথবা শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রাইমারির মতো মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট চলবে বলে জানান তারা।
সমিতির সভাপতি মাওলানা হাফেজ কাজী ফয়েজুর রহমানের সভাপতিত্বে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান, সহসভাপতি মাওলানা. মো. শাহজাহান, এ বি এম আব্দুল কুদ্দুস, আবু মূসা ভূইয়া, মো. ইনতান বিন হাকিম, মো. সামছুল আলম, আলেয়া খাতুন, হাফিজা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

