আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রেক্সিট নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বিরোধীদলীয় (লেবার পার্টি) নেতা জেরেমি করবিনের দ্বারস্থ হতে পারেন।এ
জন্য ব্রেক্সিট প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে সময়সীমা আরো বাড়ানোর অনুরোধ জানাতে পারেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে চুক্তির বিষয়ে একে একে সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিরোধীদলীয় (লেবার পার্টি) নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারেন মে। এজন্য ইইউ’র কাছে ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন মে।
অবশ্য বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে আরেকটি চুক্তি হলেও নিজের বিচ্ছেদ চুক্তিটি তার অংশ হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্রেক্সিটের চক্কর থেকে বের হওয়ার পথ কী হতে পারে তা নিয়ে মঙ্গলবার মে’র সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়।
বৈঠকে কোনো ধরনের উপায় বের না হওয়ায় সাত ঘন্টা পর এক বিবৃতি দেন মে। এতে তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের সময়সীমা ১২ এপ্রিলের পর আরও কিছুদিন বাড়াতে চাইছেন তিনি।
এদিকে জেরেমি করবিন জানিয়েছেন, তিনি মে’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারলে ‘খুব খুশি’ হবেন এবং তার সঙ্গে আলোচনার আগে কোনো সীমা নির্ধারণ করবেন না।
তিনি বলেন, ইইউ’র সঙ্গে একটি ‘কাস্টম ইউনিয়ন’ বজায় রাখা, এর একক বাজারে ব্রিটেনের প্রবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা এসবই তার দলের লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) চুক্তি বিষয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে ভোটাভুটিতে পরপর তিনি দফা হেরে গেছেন থেরেসা মে।
এ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তাবেও একমত হতে পারেননি পার্লামেন্ট সদস্যরা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র বিচ্ছেদ চুক্তির চার বিকল্পের একটিতেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে ব্যর্থ হন এমপিরা। এর ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে আরো অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় যুক্তরাজ্য।
ব্রেক্সিট পাস হলে প্রধানমন্ত্রী মে পদত্যাগ করবেন, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্বেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফরে চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যেহেতু আগামী ১২ এপ্রিল ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে ব্রিটেনের। তাই থেরেসা মেকে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে হয় ইইউ’র কাছ থেকে ব্রেক্সিটের জন্য সময় বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে না হলে চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যুক্তরাজ্যকে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন সে দেশের ভোটাররা। প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখে ভোটারের মধ্যে ৫২ শতাংশ ভোট দিয়েছিল চার দশকের সম্পর্ক ছেড়ে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তাদের যুক্তি ছিল, ইইউ’র অন্য দেশগুলোকে টানতে গিয়ে তাদের অনেক পাউন্ড খরচ হয়ে যাচ্ছে।

