নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্ব ইতোমধ্যে ২৬ শতাংশ উপকূলীয় জমি হারিয়েছে। বিশ্বব্যাপী আমরা প্রতিবছর ২ হাজার হেক্টর ভূমি হারাচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কার্বন নিঃসরণ কম করছি। এক্ষেত্রে চীন, আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলো বেশি দায়ী। কিন্তু খেসারত দিতে হবে আমাদের মতো দেশগুলোকে। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বিশ্বে মাত্র ২৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা খুবই সামান্য।’
রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক কর্মশালা ও প্রযুক্তি মেলা ২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পৃথিবীকে রক্ষা করা যাবে না। আগের তুলনায় বর্তমানে বিমানে ঝাঁকুনি বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে বিমানের এ ঝাঁকুনি আরো ২৫ ভাগ বাড়বে। তাই যেকোনো মূল্যে জলবায়ু পরিবর্তনের হার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
১০ ও ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সমিটের আয়োজন করে রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাবার পানির এতোটাই অপ্রতুল হয়ে গেছে যে, তাইওয়ানে রেশন হিসেবে পানি দেয়া হচ্ছে। পার্সোনাল পানির কানেকশনগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে কিছু কিছু দেশে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্বে যে হারে বরফ গলা শুরু হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বেশ কিছু উপকূলীয় অঞ্চল পানির নিচে চলে যাবে। যা আমাদের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার।’
অনুষ্ঠানে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘৫৩৫ মিলিয়ন ডলার গ্রিন এনার্জিতে সহায়তা করেছে এডিবি। আমাদের চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং ইনভেস্টমেন্ট রির্টান সঠিকভাবে ব্যবহার করাই হলো মূল চ্যালেঞ্জ।’
এ সময় আরো জানানো হয়, বাংলাদেশ ক্লিন এনার্জি সামিট (বিসিইএস) নামক এই আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং এক্সপো জ্বালানি দক্ষতা, নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ বিল্ডিং এবং গ্রিন ফাইনান্সকে প্রচারণা করবে। সাশ্রয়ী মূল্যের অগ্রিম নবায়নযোগ্য শক্তি ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রচার, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি দক্ষতা ও সংরক্ষণ এবং উপলব্ধ অর্থায়ন বিকল্পগুলোতে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি কমন প্ল্যাটফর্ম সহজ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের মধ্যে সহযোগীতা বৃদ্ধি করবে।
মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ক্লিন এনার্জি সামিট স্পন্সর করছে। কনফিডেন্স গ্রুপ ও বসুন্ধরা গ্রুপ প্লাটিনাম, বাংলাট্রাক, ম্যাক্স, রিজেন্ট অ্যানার্জি অ্যান্ড পাওয়ার, কর্ণফুলী পাওয়ার, শক্তি পাম্প, গোল্ড স্পন্সর এবং সিটি গ্রুপ, পারটেক্স পেট্রো, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও সামিট করপোরেশন সিলভার স্পন্সর হিসাবে আছে।
ইআরডি সচিব ও ইডকল চেয়ারম্যান মনোয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমাদ কায়কাউস, ইডকলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহমুদ মালিক প্রমুখ।

