নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী, স্বাধীনতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। তারা নির্বাচনের আগে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা সরকার, সব রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনুরোধ করেছিলাম এবার নির্বাচনে যেন সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনকারী, স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাউকে নমিনেশন দেওয়া না হয়। কিন্তু দেখা গেলো বিভিন্ন দল বা জোট মনোনয়ন দিয়েছে তাদের। কোনো দলই আমাদের কথা রাখে নি। তাই হিন্দু মহাজোটের মূল স্লোগান হবে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীকে ভোট দেবো না, ভোট দেবেন না।’
জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেন, ‘আমরা দাবি করেছিলাম যে, এবার যেন সাংখ্যানুপাতিক হারে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো দলই তা করেনি। বরং বিগত নির্বাচনের চেয়েও তা এবার কৌশলে কমিয়ে আনা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে শুধু জাতীয় সংসদই না দেশও হিন্দুশূন্য হবে।’
সহ-সভাপতি সমীর সরকার বলেন, ‘হিন্দু ভোটারদের বলবো, যে সব প্রার্থী বিগত দিনে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বা নির্যাতনে উস্কানি দিয়েছেন এবং স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব পোষন করেন তাদের যেন ভোট না দেওয়া হয়।’
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হচ্ছে নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দু নির্যাতন নিরোধকল্পে একটি কমিশন গঠন করতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন উল্লেখ করতে হবে। যেসব স্থানে নির্বাচনের আগে ও পরে নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে, সেসব এলাকায় ভোট স্থগিত করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

