নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সকল জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনমান, অধিকার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানায় মাইনরিটি রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ।
‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংখ্যালঘুর অধিকার’ শীর্ষক বৈঠকে আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ বলেন, ‘ক্ষোভ হতাশা থেকে অনেকেই এখানে অনেক কথা বলেছেন, যা যথার্থ। সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ সকলেরই ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ৪টি উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করা। সেখানে কোনো বঞ্চনা থাকবে না। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর গোটা পরিবারকে হত্যার পর থেকে সংখ্যালঘুদের অবস্থা খারাপ হতে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়েছে। রোল মডেল হয়েছে। কিন্তু এখনও এই দেশেই আমরা সংখ্যালঘু নির্যাতন, জমি দখল, পূজার মূর্তি, ম-প ভাঙচুরের খবর পাচ্ছি। আমরা ধর্মকে রাজনীতির বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে এটা বন্ধ হচ্ছে না।’
মাইনরিটি রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মানস কুমার মিত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি শ্রী পংকজ ভট্টাচার্য, ঢাবির জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম কুমার, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ, ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার দাস, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি হরেন্দ্র নাথ সিং বক্তব্য রাখেন।
এদিকে পাঁচদফা দাবি হল- ১. ক. বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা সম্পন্ন মাইনরিটি কমিশন গঠন খ. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন।
২. জাতীয় সংসদসহ সকল নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের জন্য ১৫ শতাংশ ও অনগ্রসর শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য ৮ শতাংশ আসন সংরক্ষণ।
৩. ক. হিন্দু ফাউন্ডেশন, বৌদ্ধ ফাউন্ডেশন, খ্রিস্টান ফাউন্ডেশন গঠন।
খ. আদিবাসীদের (সমতল ও পাহাড়ী) জন্য ভূমি কমিশন গঠন করে ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।
গ. আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া।
ঘ. চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা।
৪. সংবিধানের ২৯ (৩) (ক) অনুচ্ছেদের আলোকে
ক. সংখ্যালঘুর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবছর ৫ কোটি টাকার উপবৃত্তি প্রদান।
খ. সংখ্যালঘু অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর (দলিল) জন্য ৮ শতাংশ ভাগ আসন সংরক্ষণ।
৫. অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের জটিলতা নিরসন করে মালিক বা উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-অংশীদারদের কাছে সম্পত্তি ফেরত দেওয়া ও এর দ্রুত বাস্তবায়ন।

