নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের হেফাজতে থাকা দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব ও লিজে নেয়া ৬ হাজার ৩৬৭ একর জমি ও বিভিন্ন সম্পদ বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বহুস্তর বিপণন কোম্পানি (এমএলএম) ডেসটিনির বিনিয়োগকারী ও পরিবেশকরা।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। এ সময় ডেসটিনির পরিবেশক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, একদিকে কোম্পানির শীর্ষ পরিচালকদের জামিন হচ্ছে না। অন্যদিকে সম্পদ বেদখল হয়ে যাচ্ছে- এর দায়ভার কে নেবে?
তিনি বলেন, বর্তমানে ডেসটিনির সব সম্পদ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা এসব সম্পদ দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ছয় বছরেরও বেশি সময় যাবত ডেসটিনির কেনা আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। অনেক নির্মাণাধীন ভবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এ সময় ডেসটিনির সম্পদ রক্ষায় দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ শীর্ষ পরিচালকদের মুক্তি দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ডেসটিনির ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মালিকানা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের। যেখানে ৮ লাখ ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডার আছেন। যার দেখা শোনার দায়িত্ব ডেসটিনির পরিচালকদের। তারা এখনও বন্দি থাকায় এসব সম্পদ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারী ও পরিবেশকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ডেসটিনির দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, অর্থপাচার বা মানিলন্ডারিংও হয়নি। সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেয়া হয়েছে।
তারা বলেন, ‘আমরা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা ডেসটিনির পরিচালকদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় নিঃশর্ত মুক্তি এবং সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনির বিনিয়োগকারী ও পরিবেশক মোশারফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম গাজী প্রমুখ।

