আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের তোপের মুখে পড়েছে সৌদি আরব। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে এ তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের।
এ ছাড়া, দেশে মানবাধিকারের বাজে রেকর্ডের কারণেও তীব্র নিন্দার মুখোমুখি হতে হয় দেশটিকে। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি-আমিরাত নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অপব্যবহারের কারণেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সৌদি আরবকে।
সোমবার সম্মেলনের শহর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘বৈশ্বিক পর্যাবৃত্ত পর্যালোচনা’ নামের চার বছর পর পর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলনে এ তোপের মুখে পড়ে সৌদি আরব।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মানবাধিকার পরিষদকে জানান, তারা সাংবাদিক খাশোগির পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান।
ওই প্রতিনিধি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে একটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ, সমাপ্তিমূলক ও স্বচ্ছ তদন্ত দরকার, যার ফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।’
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে বহু দিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন। তবে গত সপ্তাহে তারা ইয়েমেনে অভিযান বন্দের আহ্বান জানায়।
জেনেভায় সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বন্দর আল আইবান, যিনি একই সঙ্গে দেশটির মানবাধিকার কমিশনের প্রধান। তিনি সম্মেলনে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সৌদি আরবের প্রচেষ্টার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তিনি সৌদির মানবাধিকার বিষয়ে সম্মেলনে আগত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাব দেবেন।
সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের প্রশ্ন জমা দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য প্রশ্ন রেখেছে, ‘সম্প্রতি জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরব কি জোর দিয়ে দাবি করতে পারে যে, তাদের আইন মত প্রকাশের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেয়?’
জানা গেছে, সৌদি আরবের কাছে যেসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে সেগুলো খুবই কঠিন, বিশেষ করে খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নগুলো।

