নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের রায় সকল রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বার্তা বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই রায় নিশ্চয় একটি ইঙ্গিত বহন করে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে কেউ যদি অন্যায় করে সে কোনো আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তাই এই রায় সকল রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বার্তা।
হাইকোর্টের রায়ের পর খালেদা জিয়ার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না তা জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, কেউ সাজাপ্রাপ্ত হলে নিশ্চই পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সাজা বাতিল না হয়। সাজার দুই রকম ব্যাখ্যা রয়েছে। এক. আপিল করে সাজা বাতিল করা এবং দুই. সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করা। এখানে আমার অভিমত হলো, কেউ নির্বাচন করতে চাইলে তাকে সাজা বাতিল করতে হবে। তবে সাজা সাময়িক স্থগিত করে নির্বাচন করতে পারবে না। ফলে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আপিল শুনানি অবস্থায় থাকলেও হবে না, যে পর্যন্ত সাজা বাতিল না হয়।
এর আগেও অনেকেই সাজা স্থগিত রেখে নির্বাচন করেছেন সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে নির্বাচন করতে পারবেন কি না তার জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা অনেকেই আইনের নানান ফাকফোকর দিয়ে করতে পারেন। কিন্তু আমার ব্যাখ্যা হলো যে, কেউ যদি দণ্ডপ্রাপ্ত হন সেক্ষেত্রে তার দণ্ড যতক্ষণ না বাতিল হবে, সে পর্যন্ত তিনি মুক্ত মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতে পারেন না। আবার সাজা স্থগিত হলে আপাতত জেল খাটা থেকে হয়ত অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না।
পলাতক আসামিদের বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, যারা এ মামলায় পলাতক আছেন তারা তো হাইকোর্টে আসেননি (আপিল করেননি)। তাই তাদের বিষয়ে কিছু বলার হাইকোর্টের অবকাশ নেই।
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হাজির না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তাদের ইচ্ছা। তাদের আদালত সকল সুযোগ প্রদান করেছেন। গত চার মাস ধরে হাইকোর্টে ২৮ কার্যদিবস এ মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। সম্পূর্ণরকম সুযোগ তাদের দেওয়া হয়েছে। এরকম সুযোগ দেওয়া নজিরবিহীন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এই রায়কে একতরফা এবং নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে দূরে রাখতে এ ধরনের সাজা দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্যের বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, এর কোনো সারবত্তা নেই। তারা এত দিন শুনানি করেছেন।
মামলাটির পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সাধারণত হাইকোর্টের রায়ের পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করার বিধান রয়েছে। তবে আপিল করা হবে কি না সে বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেবেন।

