নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতের বন্দরে পণ্য পরিবহনের কাজ শুরু হচ্ছে এ মাসেই। এ সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ প্রায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। এ কাজে বাংলাদেশ বেশ সক্ষম বলে জানান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সোবহান।
রোববার সাউথ এশিয়া মেরিটাইম অ্যান্ড লজিস্টিকস ফোরামের দ্বিতীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গেল মাসের ১৭ তারিখে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বি ইউজড অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া বিটুইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দি রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’ চুক্তিটি খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
সচিব জানান, চিটাংগ ও মোংলা পোর্ট সাউথ ইস্ট ইন্ডিয়ায় মালামাল পরিবহনের জন্য আমাদের সক্ষমতার কোনো সমস্যা নেই। আমরা প্রতি বছর মোংলা ও চট্টগ্রাম পোর্ট মিলে প্রায় চার হাজারের বেশি বিদেশি জাহাজ গ্রহণ করি। এর মধ্যে ৬০টি জাহাজ বাংলাদেশি। বাকি সব জাহাজই বিদেশি। কাজেই ইন্ডিয়া থেকে যেসব জাহাজ আমাদের এসব পোর্টে আসবে তার সব জাহাজ হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
সচিব বলেন, আমাদের পোর্ট পলিসিই হচ্ছে বেশি বেশি বিদেশি জাহাজ রিসিভ করা। যত বেশি জাহাজ হ্যান্ডেল করবো তত বেশি রেভিনিউ হবে। এমনকি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট বাড়বে। চিটাংগাং ও মোংলা পোর্টে ইন্ডিয়ার জাহাজ আসার পর সাউথ ইস্ট ইন্ডিয়ায় যে মালামাল ক্যারি করবে তা যাবে বাংলাদেশি গাড়িতে। অর্থাৎ বাংলাদেশি ট্রাক ব্যবহার করলে আমরা এখান থেকে নানা ধরনের সুবিধা পাবো। এক্ষেত্রে সব ধরনের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
আব্দুস সোবহান বলেন, এতে কোন ধরনের ভৌত কোনো অসুবিধা হবে না। ইতিমধ্যে আমরা পোর্ট এক্সপানশনের সব ধরনের কাজ করেছি। চট্টগ্রাম পোর্টে গ্রে টারমিনাল হচ্ছে যেখানে আরও ১৩টি জেটি যুক্ত হবে। এ টার্মিনালটিতে আরো অনেক বেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সোবহান।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে এ উপলক্ষে যে রোড কানেকটিভিটির কাজ চলছে তার জন্য ডিটেইল মাস্টার প্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্ল্যান বাস্তবায়নে বুয়েট নিয়মিতভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ সেটি হলো ড্রেজিং এর কাজ। ২৫ কিলোমিটার ড্রেজিং হবে চ্যানেলের ভিতরে এবং আর ৪৫ কিলোমিটার ডেজিং হবে সমুদ্রের ভিতরে। আর সমুদ্রের ভিতরে ড্রেজারিং করার অভিজ্ঞতা আমাদের সেভাবে নেই। এজন্য টেশনিক্যাল ফিনানসিয়াল কাজ আমরা ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। এ কাজে আমাদের মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটিকে সহযোগিতার জন্য আমরা রাহান নামে নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করছি। এ কোম্পানিটির সমুদ্র ড্রেজিং এর ক্ষেত্রে প্রায় ৯০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
‘প্রাথমিকভাবে এই পোর্টগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ৮৭০ মিলিয়ন ইউরো খরচ ধরা হয়েছে। তবে পরে এর পরিমাণ বাড়বে।’
এছাড়াও মংলা বন্দরে মাটি ভরাট করে টার্মিনাল নির্মাণের যে কাজ সেটিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। সেখানে শেখ হাসিনা রোডসহ সব ধরনের রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখানে প্রায় তিন হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্মানজনকভাবে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কারিগরি ট্রেইনিং দেওয়া হচ্ছে যাতে করে তারা নিজেরা নিজেদের জীবনযাপনে ভূমিকা রাখতে পারে।

