আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালদ্বীপের একটি অর্থপাচার বিরোধী সংস্থা দেশটির পুলিশকে জানিয়েছে যে, তারা সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগ দিয়ে নগদ প্রায় ১৫ লাখ ডলার গ্রহণের তথ্য পেয়েছে।
ইয়ামিনের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছিল। এখন তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে অর্থ গ্রহণের তথ্য সঠিক হলে তিনি ফেঁসে যেতে পারেন। এমনকি জেলেও যেতে হতে পারে তাকে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোকে দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিরুদ্ধে। তবে তা সত্ত্বেও নির্বাচনে হেরে যান ইয়ামিন। নির্বাচনের ফলকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইয়ামিনের বিরোধী দলগুলো।
মালদ্বীপের পুলিশকে পাঠানো ওই অর্থপাচার বিরোধী সংস্থার একটি গোপন চিঠি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার দৃষ্টিতে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালদ্বীপের দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা ওই চিঠির সত্যতা স্বীকার করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন নির্বাচনের আগে দুই ভাগে ওই অর্থ মালদ্বীপ ইসলামি ব্যাংকের একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করেন।
মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনস্থ ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (এফআইইউ) এর এ চিঠির তারিখ হলো ১৩ সেপ্টেম্বর এবং সেটি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আবদুল্লাহ নওয়াজকে সম্বোধন করে লেখা।
চিঠিতে এফআইইউ জানিয়েছে, একটি তৃতীয় পক্ষ প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্টে গত ৫ সেপ্টেম্বর নগদ ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ মার্কিন ডলার জমা দেয়। এ ছাড়া, একই অ্যাকাউন্টে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৮ লাখ ১০ হাজার ৬৩৫ ডলার জমা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘পরবর্তীকালে সব অর্থই নগদ তুলে ফেলা হয়।। যখন ব্যাংক ওই অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, ব্যাংককে বলা হয় যে, ওই অর্থ প্রাইভেট কোম্পানি ও অন্যান্য উৎস থেকে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য অনুদান হিসেবে এসেছে।’
তবে প্রেসিডেন্টের পক্ষে কে ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছেন, সে বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

