আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় জাতিসংঘের সমর্থন চেয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি কোনো দেশ নিষেধাজ্ঞা না মানলে ‘কঠোর পরিণতি ভোগ করবে’ বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের উদ্বোধন করার পর তার দেওয়া বক্তব্যে পরিষদের সদস্য দেশগুলোকে এ হুমকি দেন ট্রাম্প।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ‘অনিষ্টকর আচরণের’ কারণে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছে। ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ তা মানতে ব্যর্থ হলে ভয়ানক রোষানলে পড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্রের।
খালিজ টাইমস জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের এই হুমকির সমালোচনা করেছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে ইরানের বিষয়ে দীর্ঘ মেয়াদি কৌশলে কাজ করার পক্ষপাতি বলে জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র গত আগস্টে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আর আগামী নভেম্বর থেকে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর দেশটির ওপর নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞা দেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ওই চুক্তি হরেয়ছিল। এর ফলে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে অনেকটা রেহাই পেয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ওই চুক্তি বাদ দিয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানকে এই বলে সতর্ক করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, এর জনগণ কিংবা মৈত্রী দেশের ক্ষতি করলে ভয়ানক পরিণতি বরণ করতে হবে।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে ইরানবিরোধী এক কনফারেন্সে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন দূত বোল্টন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তেহরানের মোল্লাদের খুনি শাসকগোষ্ঠী যদি মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি ও প্রতারণা চালিয়ে যায় তবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
ইরানকে লক্ষ্য করে বোল্টন বলেন, ‘যদি আপনারা আমাদের, আমাদের মৈত্রী কিংবা অংশীদারদের প্রতি সীমা অতিক্রম করেন; আমাদের জনগণের ক্ষতি করেন তাহলে অবশ্যই ভয়ানক পরিণতি ভোগ করতে হবে। আজ আমার স্পষ্ট বার্তা শুনে রাখুন : আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

